গণপূর্তে একই পদে আট বছর নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলামকে ঘিরে নীতিমালা লঙ্ঘন ও দু’র্নী’তির অ’ভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১৪-০৫-২০২৬ ০২:৩৩:৩৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৪-০৫-২০২৬ ০২:৩৩:৩৩ অপরাহ্ন
মোঃ আশরাফুল ইসলামের
গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল (ই/এম) বিভাগ–১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে একই পদে টানা আট বছর দায়িত্বে থাকার পাশাপাশি দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদ গড়ার অভিযোগ উঠেছে।
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো নির্বাহী প্রকৌশলী এক স্থানে তিন বছরের বেশি দায়িত্বে থাকার সুযোগ না থাকলেও আশরাফুল ইসলাম দীর্ঘ সময় ধরে একই পদে বহাল রয়েছেন বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট মহলের। এতে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ার পাশাপাশি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠার আশঙ্কাও প্রকাশ করা হচ্ছে।
২০২১ সালের ৫ আগস্ট গণপূর্ত অধিদপ্তরের এক প্রজ্ঞাপনে তিন বছরের বেশি সময় একই পদে থাকা প্রকৌশলীদের অবিলম্বে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়। উদ্দেশ্য ছিল দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অদক্ষতার চক্র ভেঙে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। তবে বাস্তবে এই নির্দেশনার প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, কারণ অনেক ক্ষেত্রেই নীতিমালা উপেক্ষিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সূত্র বলছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে দুর্নীতির মামলায় নাম থাকলেও আশরাফুল ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রেখেছেন। এ কারণে প্রশাসনিক নীতিমালা বাস্তবায়ন নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে।
একাধিক ঠিকাদার ও অভ্যন্তরীণ কর্মকর্তাদের অভিযোগ, তার দপ্তরে দরপত্র ছাড়াই কাজ শুরু করা, পরে টেন্ডার আহ্বান এবং ঠিকাদারি সিন্ডিকেটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার মতো অনিয়মের চর্চা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।
দপ্তরের এক জুনিয়র কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এখানে টিকে থাকতে হলে ব্যবস্থাপনা বোঝা জরুরি, না হলে টিকে থাকা কঠিন। তবে তিনি প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় দক্ষ।”
আরও অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও তিনি একাধিকবার বদলির তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। অন্যদিকে একই ধরনের অভিযোগে অন্য কর্মকর্তারা বদলি হলেও তার ক্ষেত্রে তা কার্যকর হয়নি বলে দাবি করা হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মোঃ আশরাফুল ইসলাম কোনো মন্তব্য দেননি।
বর্তমানে আট বছরের বেশি সময় একই পদে থাকার কারণে তার ভূমিকা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যমান নীতিমালা কার্যকর না হলে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ আরও বাড়তে পারে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload
কমেন্ট বক্স